শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,
১২ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি, সকাল ৭:৫৯

লকডাউনে সাইনবোর্ডে হাইওয়ে পুলিশের পোয়াবারো চলছে যাত্রীবাহীবাসসহ সবধরনের যানবাহন

স্টাফ রিপোর্টারঃ
মহামারী করোনার বিস্তার রোধকল্পে দেশের ৭ টি জেলার সাথে নারায়ণগঞ্জ জেলাকেও লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে (২৩জুন ২০২১) নারায়ণগঞ্জ, কুমিল­া, নরসিংদীসহ পূর্বাঞ্চলীয় জেলা থেকে ঢাকামুখি এবং ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী বাস মিনিবাস, লেগুনা, সিএনজি, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকারসহ সবধরনের যাত্রীবাহী যানবাহন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড দিয়ে কাঁচপুরের দিকে বিনা বাধাঁয় চলাচল করছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে প্রতিটি পয়েন্টের দায়িত্ব কর্তব্যরত কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের কোন সদস্যের যেন কোন দায়িত্বই নেই। মেঘনাঘাট, গাউছিয়া ও সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল থেকেও ঢাকায় অবাধে যাত্রীবাহী বাস মঞ্জিল, রজনীগন্ধা, সিটি লিংক, মেঘনা থেকে হিমালয় পরিবহন, নারায়ণগঞ্জ থেকে বন্ধন, মৌমিতা, ঠিকানাসহ সকল যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। সাইনবোর্ড ও শিমরাইলমোড়ে খোদ কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের দায়িত্বে নিয়োজিত ট্রাফিক সার্জেন্টদের চোখের সামনেই এসব যানবাহন চলাচল করলেও তারা এসব দেখেও না দেখার ভান করছেন। নেই কোন পুলিশের চেকপোষ্টের তৎপরতা। (২৩জুন২০২১) বুধবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত মহাসড়কের শিমরাইল, সাইনবোর্ড ও তারাবসহ কয়েকটি পয়েন্টে কয়েকদফা অবস্থান করে লকডাউন বিহীন এসকল চিত্র দেখাগেছে। সকাল সাড়ে ১১ টায় কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি মোঃ মনিরুজ্জামান সাইনবোর্ডে এসে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী ৫ টি লেগুনা এবং কয়েকটি যাত্রীবাহী বাস তিনি নিজেই আটক করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন এবং তিনি বেলা দেড়টা পর্যন্ত সাইনবোর্ডে এলাকায় অবস্থান করেন এ সময়ে তিনি বিআরটিসি ডাবল ডেকারসহ কয়েকটি বাসের যাত্রী নামিয়ে বাস উল্টো ঘুরিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু সাইনবোর্ডে ,শিমরাইল ও তারাব বিশ্বরোডে কর্তব্যরত হাইওয়ে পুলিশ সদস্যরা যাত্রীবাহী বাস, লেগুনা, সিএনজির বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করে মূর্তির ন্যায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। যার কারণে লকডাইনেও সাইনবোর্ডে ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন মিডিয়াকর্মীরা কর্তব্যরত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর ওমর ফারুককে কয়েকটি যাত্রীবাহীবাস দেখিয়ে দিলে তাৎক্ষণিক তিনি সেগুলো আটক করেন। হাইওয়ের বিভিন্ন পয়েন্টে কর্তব্যরত সার্জেন্টরা পুলিশ সদস্যদের নিয়ে মাইক্রোবাস,হাইয়েচ আটক করে প্রতিটি গাড়ি থেকে ২০০০-৩০০০ টাকা করে বাণিজ্যে মেতে উঠেন বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। সাইনবোর্ডে মোবাইল কোর্টে কয়েকটি যানবাহনের নামে মামলা দেওয়া হয়েছে। মহাসড়কে দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছেনিষিদ্ধ ঘোষিত থ্রীহুইলারসহ ব্যাটারি চালিত রিকশা, ইজিবাইক। সানারপাড়ের ব্যবসায়ী ইমাম কাজী হাইয়েচ গাড়িতে ঢাকায় যাওয়ার পথে সাইনবোর্ডে গাড়ি থামিয়ে বলেন, কোথায় লকডাউন সবইতো চলছে পুলিশকে ম্যানেজ করে। ঢাকা থেকে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলে মঞ্জিল পরিবহন বাসে আসা যাত্রী মানিক ও আকবর বলেন, সাইনবোর্ডে পুলিশ আসার সময় বাসটি আটক করে রাখলেও কন্ডাকটরের সাথে রফাদফা করে যাত্রীসহ বাসটি চলে এসেছে। হাইওয়েতে শুধু দুরপাল­ার গণপরিবহন দিনের বেলায় বন্ধ থাকলেও রাতে অনেক দূরপাল­াগামী গণপরিবহন হাইওয়েতে চলাচল করছে বলে পরিবহনের সাথে একাধিক ব্যবসায়ী জানান। কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, লকডাউন বাস্তবায়ন করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। যেহেতু ঢাকায় লকডাউন নেই সেহেতু ঢাকা থেকে যাত্রীবোঝাই করে বিভিন্ন পরিবহনের বাস সাইনবোর্ড এলাকায় এসে যাত্রী নামাচ্ছে। ঈদের মতো মানুষকে ছুটতে দেখাগেছে। সাইনবোর্ডে মানুষের ঢল নেমেছে। সাইনবোর্ড দিয়ে নারায়ণগঞ্জেও অবাধে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। এছাড়া ডেমরার সারুলিয়া হয়ে এবং সুলতানা কামাল সেতু হয়ে শিমরাইলে ও তারাবতে অনায়াসে যানবাহন চলাচল করছে। শিমরাইলমোড়ে সিএনজি, কোমল, মঞ্জিল, রজনীগন্ধা, , সিটি লিংক, বন্ধুসহ বিভিন্ন পরিবহন মহাসড়কজুড়ে গাড়ির ষ্ট্যান্ড বানিয়ে রেখেছে। শিমরাইল ইউটার্নে ঢাকা থেকে আসা লেগুনা উল্টো ঘুরানো হচ্ছে এবং মহাসড়ক জুড়ে নীলাচল ও লেগুনার স্ট্যান্ড বানিয়ে রেখেছে। হাইওয়ে পুলিশ এসব দেখেও না দেখার ভান করছে। মহাসড়কের দুপাশে শত শত ট্রাক, বাস, কাভার্ডভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন শিমরাইল থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত স্ট্যান্ড বানিয়ে রেখেছে। যার কারণে চট্রগ্রামমুখী ও ঢাকা মুখী এই সাইনবোর্ডে যানজট লেগেই আছে আগের মতোই। সার্জেন্ট শরিফুল ইসলাম বলেন, ৫ টি যানবাহনের নামে মামলা দিয়েছি। সকাল ৯ টা থেকে থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত শিমরাইলমোড়ে কোন ট্রাফিক ইন্সপেক্টরকে দেখা যায়নি। হাইওয়ে পুলিশ গাজীপুর রিজিয়ন পুলিশ সুপার আলী আহমেদ বলেন, লকডাউনের প্রথম দিন আমরা ২৮ টি যানবাহন আটক করেছি, হাইওয়েতে পুলিশের চোখের সামনে যাত্রীবাহী বাস মিনিবাস, লেগুনা, সিএনজি, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার অবাধে চলাচলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে বলেন ছবি ও ভিডিও পাঠান তবে এগুলো আমরা ধরতে পারবো বলে দায়সারা জবাব দিয়ে আরও বলেন ডেমরার সুলতানা ব্রিজ, ও সারুলিয়া দিয়ে যানবাহন প্রবেশ করার কথা পুলিশ সুপার আলী আহমেদ স্বীকার করে বলেন গত ২২ জুন আমরা ২৮ টি যানবাহন আটক করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করেছি।

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা